ছবিঃ সংগৃহীত
বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বর মুখর হবে বাউল আর লোকগানে। বিচারগানের (যুক্তি-তর্কভিত্তিক লোকসংগীত) সম্রাট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম বয়াতির ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে আয়োজন করা হয়েছে হালিম বয়াতি স্মরণোৎসব-২০২৬।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হারিকেন’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে থাকবেন আলোকচিত্রী ও গবেষক নাসির আলী মামুন এবং লেখক ও গবেষক শফিকুর রহমান চৌধুরী, ড. তপন বাগচী ও ড. সাইমন জাকারিয়া। হালিম বয়াতির শিষ্য লাল মিয়া বয়াতি, নজরুল বয়াতি ও তাঁর ছেলে নিশানে হালিম স্মৃতিচারণ করবেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে গান শোনাবেন দেশের খ্যাতিমান বাউল ও লোকশিল্পী আলেয়া বেগম, ফকির আবুল সরকার, লতা দেওয়ান, রুমা সরকার, মুক্তা সরকার, সৈয়দ আশিকুর রহমান, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, বগা তালেব, আকাশ গায়েন, শাহ মোহাম্মদ শিপন, খোকন চিশতি, নবীন কিশোর গোস্বামীসহ অনেকে। যন্ত্রসংগীতে থাকবেন আলম বয়াতি, রনি দেওয়ান, কানন মোল্লাসহ কয়েকজন শিল্পী।
মরমি সাধক ও বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী আবদুল হালিম বয়াতির (আবদুল হালিম মিয়া) জন্ম ১৯২৯ সালের ৩০ অক্টোবর, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বড়দোয়ালী গ্রামে।
ছেলেবেলাতেই গানের চর্চা শুরু করেন তিনি। বাউলগানের ‘বিচার ধারা’ আর আধ্যাত্মিক সুফিগানের জন্য তাঁর ব্যাপক সমাদর। দেশে লোকবাদ্যযন্ত্র ‘সারিন্দা’ জনপ্রিয় করার পেছনে তাঁর বড় অবদান আছে; ১৯৫৭ সালে বেতারের সরাসরি অনুষ্ঠানে প্রথমবার এই যন্ত্র বাজান তিনি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন হালিম বয়াতি।
জীবদ্দশায় ৫ সহস্রাধিক গান লিখেছেন তিনি, যেগুলো ‘হালিম সংগীত’ নামে পরিচিত। দেহতত্ত্ব, শরিয়ত, মারফত, হকিকত, তরিকত ও দেশাত্মবোধক গান এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
লোকসংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি তাঁকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ দেয়। ‘কবি জসীমউদ্দীন গবেষক স্বর্ণপদক’ও পেয়েছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ৭৭ বছর বয়সে এই গুণী সাধকের মৃত্যু হয়।